সবুজ ও পরিবেশ-বান্ধব মহিলা পরিচালিত আদর্শ ভোটকেন্দ্র তৈরি করে নজির গড়ল কাছাড় জেলা প্রশাসন

সবুজ ও পরিবেশ-বান্ধব মহিলা পরিচালিত আদর্শ ভোটকেন্দ্র তৈরি করে নজির গড়ল কাছাড় জেলা প্রশাসন

শিলচর: প্রথমবার যারা এবার ভোট দিলেন, তাদের আগ্রহ বাড়াতে জেলার সাতটা বিধানসভা কেন্দ্রে পরিবেশ-বান্ধব মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্র তৈরি করল কাছাড় জেলা প্রশাসন।

এছাড়াও এবার আরেক মাইল ফলক তৈরি করেছে কাছাড় প্রশাসন, দ্বিতীয় দফার আসাম বিধান সভা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২০১টি মহিলা পরিচালিত ভোট কেন্দ্র রয়েছে জেলায়।

নিজের অধিকারের ঐতিহ্য উদযাপনে ভোটাররা যে সব আদর্শ ভোটকেন্দ্রগুলোতে যাবেন,সেগুলোকে কাছাড়ের পরম্পরাগত সাংস্কৃতির থিমের ওপর সাজানো হয়েছে। এবার শিলচর বিধানসভাকেন্দ্রে ওরিয়েন্টাল স্কুল ও হলি ক্রস হাইস্কুলকে আদর্শ ভোটকেন্দ্র বানানো হয়েছে।

কাছাড়ের জেলাশাসক কীর্তি জল্লি বলেন, “গর্ব কাছাড়—এই অভিযানের মাধ্যমে আমাদের নিজের ঐতিহ্যকে উদযাপন করতে চেয়েছি, একই সংগে এর প্রতিফলন ঘটাতে চেয়েছি ভোটারদের মধ্যেও। কাছাড়ের হস্ত ও তাঁত শিল্পকে তুলে ধরা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার করা ঐতিহাসিক যন্ত্রপাতির ঝলক নতুন ভোটারদের দেখানোর জন্য রাখা হয়েছে, যাতে তারা গণতন্ত্রের জয়যাত্রা সম্বন্ধে জানতে পারেন, আর তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহী হোন। আদর্শ ভোটকেন্দ্রগুলোকে সত্যিকার অর্থেই অন্য মাত্রায় পৌঁছানোর কথা ভাবা হয়েছে। মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী ব্যবহার করে সবুজায়নের বার্তা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ” আমার বলতে গিয়ে গর্ব হচ্ছে, প্রতিটি গেটকে শীতল পাটি ও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। এর দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় আত্মসহায়ক গোষ্ঠীর মহিলারা। আমরা ভোটাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্থানীয় সামগ্রীকে প্রাধান্য দিয়েছি।”

এদিন ভোটকেন্দ্রে আসা প্রথম পুরুষ, মহিলা, প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের চারাগাছ দিয়ে আদর্শ ভোটকেন্দ্রের ভোটকর্মীরা সম্মান জানান। ভোটকেন্দ্রের গেট আত্মসহায়ক গোষ্ঠীর মহিলারা পরম্পরা গত শীতল পাটি দিয়ে সাজান। ভোটকেন্দ্রের ভেতর সাজানো হয় বিভিন্ন চিত্রশিল্প, ধান ইত্যাদি দিয়ে।

ইতিমধ্যে, শিলচর পুরসভার প্রত্যেক ওয়ার্ডে থাকা প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে ই-রিকশার মাধেমে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তাঁরা বিনা বাধায় নিজেদের ভোট দিতে পারেন। এই উদ্যোগ বিশেষ ভাবে সাড়া ফেলেছে। প্রবীণ ব্যক্তিরা যারা এদিন এই সুবিধা নিয়েছেন তাদেরকে ‘উত্তরীয়’ দিয়ে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সম্মান জানান।

“আমরা দেখেছি শিলচরে অনেক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাই তাঁদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সুবিধা গ্রামের প্রবীণরাও পাবেন। গ্রামের ক্ষেত্রে বিএলও, সমাজকল্যাণ বিভাগ সাহায্য করবে। এই উদ্যোগের পিছনে একটাই উদ্দেশ্য— কোনও ভোটার যাতে ভোট দেওয়া থেকে বিরত না থাকেন।” আরও বলেন জেলাশাসক।

ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জেলার মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেন জেলাশাসক।