” বিবেকানন্দ পাঠমন্দির “_এক সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সংস্থা

” বিবেকানন্দ পাঠমন্দির “_এক সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সংস্থা

” বিবেকানন্দ পাঠমন্দির “_এক সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সংস্থা

“বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর,
জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।”

          যুগনায়ক স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০০৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয় "বিবেকানন্দ পাঠ মন্দির, উধারবন্দ"-এর পথচলা। শ্রীযুক্ত হরিহর চক্রবর্তী স্যারের বিশেষ প্রচেষ্টায় এবং "শিবজ্ঞানে জীবসেবা" - এই মহান ভাবধারা মাথায় রেখে মুষ্টিমেয় কয়েকজন শিশুকে নিয়ে স্থাপিত হয় বিবেকানন্দ পাঠ মন্দির।

“জ্ঞান-ই সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ”। সর্বপ্রথম মাত্র ১০জন ছোট্ট ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে প্রতিদিন ১ ঘন্টা করে ক্লাস শুরু হয় স্থানীয় “মিলনতীর্থ ক্লাব”-এ। কিন্ত ‘সৎ কর্মে শত বাধা’। কিছুদিনের মধ্যেই এই জায়গা বদল করে স্থানীয় “স্টার ক্লাব”-এ পুনরায় ক্লাস শুরু করা হয়। তারপর প্রতি মাসে, প্রতি বছরে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ধীরে-ধীরে শুরু করা হয় বাচ্চাদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং প্রতি বছর-ই স্বামীজীর জন্ম জয়ন্তী উদযাপন। সেইসঙ্গে শুরু হয় নানা সেবামূলক কর্ম – বস্ত্র বিতরণ, ত্রান-সাহায্য, দরিদ্র ছাত্রদেরকে ভর্তি ফিস প্রদান, চিকিৎসার জন্য যথাসাধ্য আর্থিক সাহায্য, সাফাই অভিযান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে পীড়িতদের মধ্য জরুরি সামগ্রী বিতরণ, দরিদ্র নারায়ণ সেবা, ইত্যাদি।

এভাবে বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে বিবেকানন্দ পাঠ মন্দিরের কর্মযজ্ঞ। একসময় “স্টার ক্লাব” ছেড়ে চলে যেতে হয় স্থানীয় “নবারুণ সংঘ” ক্লাব ঘরে। তারপর ২০১৪ সালে ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে “বিবেকানন্দ পাঠমন্দির”-এর দ্বিতীয় পাঠদান কেন্দ্র চালু হয় চানখিরা চা-বাগানের সাঁওতাল বস্তিতে এবং ২০১৯ সালে ৪০জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে তৃতীয় পাঠদান কেন্দ্র চালু হয় দয়াপুর চা-বাগানে। স্বামীজীর অশেষ কৃপায় এবং শুভাকাঙ্ক্ষী সকলের প্রীতি-ভালোবাসা ও সাহায্য-সহানুভূতিতে এখন “পাঠমন্দিরের” দুটি পাঠদান কেন্দ্রতেই ভালোভাবে ক্লাস চলছে।

        "পাঠমন্দির" বিগত ১৭বছর থেকে যথাসম্ভব চেষ্ঠা করছে অস্পৃ্শ্য-সমাজের দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে। এখানের সদস্য-সদস্যারা শিখেছেন - "জীবসেবাই শ্রেষ্ঠ সেবা"। স্বামীজীর আশীর্বাদে বর্তমানে দুটি নিজস্ব স্কুল চালানোর পাশাপাশি বৎসরের প্রতিমাসে নানারকম সেবামূলক কাজও চালিয়ে যাচ্ছে "পাঠমন্দির" ; যেমন ----- দরিদ্র নারায়ণ সেবা // কৃষকপূজা // বিভিন্ন মরশুমে বস্ত্র বিতরণ // অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য অর্থদান // কম্বল বিতরণ // গর্ভবতী মহিলা ও অসুস্থ মহিলাদের মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ //  বিভিন্ন শিক্ষাকেন্দ্রে স্কুল ব্যাগ, ব্ল্যাকবোর্ড, খাতা, পেন্সিল ও পড়াশোনার সামগ্রী বিতরণ // মশারী বিতরণ // অসহায় পরিবারের নবজাতক শিশুদের জন্য বেবিফুড বিতরণ, ইত্যাদি।

ভয়ানক করোনা মহামারীর সময়-ও সদস্যা-সদস্যারা স্বামীজীকে সাথে নিয়ে ছুটে গিয়েছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ১০০০ করোনা সচেতনতামূলক পোস্টার লাগানো ও ২০০০ লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে কর্মযজ্ঞের সূচনা করা হয়েছিল। তারপর উধারবন্দের বিভিন্ন অঞ্চলে স্যানিটাইজার স্প্রে করা // মাক্স বিতরণ // তাছাড়া রেলবস্তি, রূপাছড়া মিকির পুঞ্জি, শুবং সাঁওতাল টিলা, বাউন্ডারি কার্বি খাসিয়া পুঞ্জি, ঝাপিরবন্দ, ইন্দ্রনগর, অমরানগন, সত্যনগর, গারমাডিসা, বাঁশতলা, বাউড়িবস্তি, সোনাছড়া, চিমটিবিল, শিরিশতল, ঠাইলু, খাসপুর গ্রান্ট এবং নগর চা-বাগান মিলিয়ে পাঁচ-শতাধিক পরিবারের মধ্যে খাদ্য ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

আগামীদিনেও “বিবেকানন্দ পাঠ মন্দির”-এর চলার পথে আপনাদের সকলের সাহায্য ও সহযোগিতা একান্তভাবে কমনীয় । তাই যথাসম্ভব আপনাদের আর্থিক সাহায্যের হাতটুকু বাড়িয়ে দিয়ে নিজের ঘরে বসেই সমাজের অসহায় মানুষদেরকে সাহায্য করুন ।
Account name : VIVEKANANDA PATMANDIR
Account no. : 0443010112024
IFSC : UTBI0UDB374
Bank name : United Bank of India
Branch : UDARBANDH(0443)
Google pay number : 7002565449 (Sandip Acharjee, member, VPM)
UPI id : 9706609651@paytm (Rajdeep Chakraborty, member, VPM)

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; বর্তমানে এই পাঠমন্দিরের সকল সেবামূলক কর্মের যিনি ব্যবস্থাপক এবং সমন্বয়কারীরূপে সবকিছু পরিপূর্ণভাবে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তিনি আমাদের উপত্যকার অতি স্বনামধন্য ও মেধাবী পুত্র, অত্যন্ত ভালো গায়ক, চিত্রকার, ফোটোগ্রাফার এবং অন্যান্য আরো অপরিমেয় গুণের অধিকারি ডঃ কনকদীপ শর্মা। অতি অল্প বয়স থেকেই তিনি ক্রমাগত মানবসেবা এবং সমাজসেবা করে আসছেন। আজ উনার শুব জন্মদিন।
আমাদের ” Daily পাঁচালী ” পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই । একজন ডাক্তার হয়েও, অবিরত নিয়মিতভাবে সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে ডিউটি করে, এর ফাঁকে ব্যাক্তিগত জীবনের সময়টুকুতে যে আপনি সর্বদা এধরনের সেবাকর্ম করে যাচ্ছেন – আমরা সত্যি মুগ্ধ! সুস্থ থাকবেন। ভালো থাকবেন।

বিবেকানন্দ পাঠমন্দির আরো এগিয়ে যাক এটাই আমাদের কামনা।